‘সারা বিশ্বেই কমছে পাখি, বাড়ছে দালানকোঠা'

পাখি কমছে কেন? কীভাবে পাখিদের আবাসস্থল বাড়ানো যায়? কি করলে পাখির সংখ্যা বাড়তে পারে? এসব বিষয়ে এবার ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল-হক৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে কত প্রজাতির পাখি আছে?

ইনাম আল-হক: বাংলাদেশে ৭০০ প্রজাতির পাখি আছে৷

এর মধ্যে দেশি পাখির সংখ্যা কেমন?

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

দেশি-বিদেশি নয়, যে পাখি একদিন এদেশে দেখা যায়, সেটাও এদেশের পাখি৷ কিছু পাখি এ দেশে সারা বছর থাকে, কিছু থাকে না৷ পাখি এরকমই হয়৷ পাখির খাবার সারা বছর এক মহাদেশেও হয় না৷ কিছু পাখি আছে গ্রীষ্মে বা শীতে খাবারের জন্য একেক জায়গায় থাকে৷ আবার প্রজননের জন্য আলাদা জায়গায় থাকে৷ তাহলে কোন পাখি কোন দেশের? সারা বিশ্ব যেটি মেনে নেয়, সেটি হলো, পাখিরা একদিনের জন্য যে দেশকে নিয়মিত ব্যবহার করে, পাখিরা সেই দেশের৷ এক পাখি বহু দেশের হতে পারে৷ যেমন ধরেন, সুমচাও নামের পাখি গ্রীষ্মে বাংলাদেশে জন্মায়, শীতে তাদের কিন্তু খাবার নেই, তাই তারা দক্ষিণে, যেমন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়৷ আবার তারা গ্রীষ্মে এই দেশে ফিরে আসে৷ এই পাখি তাহলে কোন দেশের? এটা বাংলাদেশেরও, মালয়েশিয়ারও৷ আবার অনেক পাখি আছে যারা শীতে বাংলাদেশে আসে৷ এরপর প্রজননের জন্য হিমালয়ে চলে যায়, তিব্বতে চলে যায় বা তুন্দ্রা অঞ্চলে চলে যায়৷ তারা কি তাহলে বাংলাদেশের পাখি নয়? অবশ্যই বাংলাদেশের পাখি৷ ওরা সাইবেরিয়ারও পাখি৷ এই হিসেবে আমাদের যে ৭০০ প্রজাতির পাখি আছে, এর মধ্যে সাড়ে ৩শ' প্রজাতির পাখি সারা বছর বাংলাদেশে থাকে না৷

শীতের মৌসুমে তো অনেক পাখি বাংলাদেশে আসে৷ এই ধরনের কত প্রজাতি আছে যারা একটা নির্দিষ্ট মৌসুমে বাংলাদেশে আসে? 

প্রায় সাড়ে ৩শ' প্রজাতির পাখি শীতে বাংলাদেশে থাকে, কিন্তু প্রজনন করে না৷ প্রজননের সময় হলো উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্ম৷ তখন তারা উত্তরে চলে যায়৷ হিমালয়, তিব্বত, মঙ্গোলিয়া বা আরো উত্তরে সাইবেরিয়ায় চলে যায়৷ আর ১০ থেকে ১২ প্রজাতির পাখি আছে, যারা গ্রীষ্মেই শুধু বাংলাদেশে থাকে, শীতে এখানে থাকে না, দক্ষিনে চলে যায়, যেখানে শীতেও কিছুটা আর্দ্র৷

অডিও শুনুন 11:41
এখন লাইভ
11:41 মিনিট
মিডিয়া সেন্টার | 17.01.2019

‘এখন পাখির প্রতি মমতা বা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে’

বিশেষ সময়ে বাংলাদেশে আসা পাখির সংখ্যা কমছে, নাকি বাড়ছে?

কমে যাচ্ছে, কারণ, সারা বিশ্বেই পাখির সংখ্যা কমছে৷ তবে এক বছরের চেয়ে আরেক বছর বেশি হতে পারে৷ আমরা এবার যে গণনা করেছি, তাতে দেখা যাচ্ছে গত বছরের চেয়ে এবার পাখির সংখ্যা বেশি হবে৷ কিন্তু আমরা যদি গত ৩০ বছরের হিসাব করি, তাহলে ট্রেন্ডটা কমতির দিকেই৷

কেন কমে যাচ্ছে?

বাংলাদেশে কমে যাচ্ছে, কারণ, সারা বিশ্বেই কমে যাচ্ছে৷ গত ৩০ বছরের হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বেই পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে৷ আর আমরা এশিয়া মহাদেশে হিসাব করে দেখেছি, এ অঞ্চল অনেক বেশি উন্নত হচ্ছে৷ উন্নত বলতে আমরা বুঝছি, এখানে রাস্তাঘাট হচ্ছে, দালানকোঠা হচ্ছে৷ ফলে পাখির বসবাসের জায়গা কমে যাচ্ছে৷ আমাদের যেমন বসবাসের জায়গা লাগে, তেমনি পাখিরও বসবাসের জায়গা লাগে৷ পাশাপাশি আমরা যে পরিবেশ দূষণ করছি, তার কারণে অনেক পাখি মারা যাচ্ছে৷ মোট কথা, সবাই ধরে নেয়, পাখি কমে যাচ্ছে তাদের জায়গা কমে যাচ্ছে৷ তাদের তো প্রজননের জায়গা লাগে, থাকার জায়গা লাগে৷

বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে পাখি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?

যেখানে মানুষের বসতি কম, সেখানেই পাখির বসবাস বেশি৷ যেমন ধরেন, উপকূলে মানুষের বসতি কম, কারণ, সেখানে মানুষ বসবাস করতে পারে না৷ সেখানে পাখির বসতি বেশি৷ আবার সিলেটের বিস্তীর্ন হাওরঞ্চালে মানুষের পক্ষে বসবাস করা কঠিন, সেখানেও পাখির বেশি বসবাস৷ অর্থাৎ, যেখানে মানুষের বসবাস বা চলাফেরা কম সেখানেই পাখির বসবাস বেশি৷

পাখির অভয়ারণ্যের জন্য সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?

বাংলাদেশের সরকার কিছু শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই এখনো কিছু পাখি টিকে আছে৷ এ ব্যাপারে সরকারের প্রশংসা না করলেই নয়৷ কিছু এলাকায় সরকার মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত করেছে৷ হাওরাঞ্চলের কিছু এলাকা সংরক্ষিত করেছে৷ কিছু বন সরকার সংরক্ষিত করেছে৷ ফলে সেখানে কিছু পাখি বসবাস করতে পারছে৷ সুন্দরবনকে সরকার সংরক্ষিত করেছে৷ আমি প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গিয়ে দেখেছি, তারা কিভাবে তাদের ম্যানগ্রোভ ফরেস্টকে নষ্ট করে সেখানে লবণ চাষ করছে৷ কিন্তু আমাদের সরকার সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে৷ আমরা কিন্তু আমাদের সুন্দরবনকে নষ্ট করিনি৷ কিছু কিছু যে নষ্ট হয়নি, তা নয়৷ মানুষ সেখানে ঢুকছে৷ কিন্তু সরকারের তরফ থেকে আমরা দেখছি, গত ৪০ বছরে সরকার এটিকে রক্ষা করারই চেষ্টা করছে৷ আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গেও যান, সেখানে দেখবেন সুন্দরবনের মধ্যেও মানুষের বসতি আছে৷ কিন্তু আমাদের দেশে এত মানুষের বাস, তারপরও সুন্দরবনের মধ্যে সরকার কাউকে বসতি গড়তে দেয়নি৷ খালি সমালোচনা করলেই হবে না, ভালো দিকগুলোও বলতে হবে৷ যদিও হয়ত যথেষ্ট করা হচ্ছে না, আমরা হয়ত আরো বেশি চাই, তারপরও সরকার যেটা করছে, সেটা অনেক৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

বাংলাদেশের পাখি

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বাংলাদেশে পাখির প্রজাতির সংখ্যা ৬৫০টি৷ এর মধ্যে ৩০টি বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে বিলুপ্ত৷ অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির মধ্যে ৪৭৭ প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায়, বাকি ১৪৩ প্রজাতি অনিয়মিত দেখা যায়৷ নিয়মিত ৪৭৭ প্রজাতির মধ্যে ৩০১টি বাংলাদেশের ‘আবাসিক’ এবং ১৭৬ প্রজাতি ‘পরিযায়ী’ পাখি৷ 

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল৷ দেশের সব জায়গাতেই পাখিটি দেখা যায়৷ গাছের প্রাকৃতিক খোঁড়লে কিংবা ঝোঁপঝাড়ে এরা বাসা বাঁধে৷ ছোট এ পাখিটির ইংরেজি নাম ওরিয়েন্টাল ম্যাগপাই রবিন আর বৈজ্ঞানিক নাম ‘কপসিকাস সলারিস’৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

বাংলাদেশে পরিযায়ী পাখি

তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বেঁচে থাকার জন্য শীত মৌসুমে আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিযায়ী পাখিরা সাময়িকভাবে আবাস গড়ে৷ বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বর মাসে পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করে এবং এপ্রিল মাস পর্যন্ত থাকে৷ বাংলাদেশে পরিযায়ী পাখির সবচেয়ে বড় কয়েকটি আবাস হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক, মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিল ও হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, ফেনীর মুহুরি সেচ প্রকল্প ইত্যাদি৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

লোকালয়ের পাখি

বাংলাদেশের লোকালয়ের আশপাশে কিছু পাখি সচরাচর দেখা যায়৷ দোয়েল, শালিক, কাক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷ বাংলাদেশের সব জায়গাতেই এসব পাখি প্রচুর দেখা যায় এখনো৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

বনের পাখি

বাংলাদেশের বনাঞ্চলে বেশ কিছু পাখি দেখা যায়, যেগুলো সাধারণত লোকালয়ে দেখা যায় না৷ এ ধরনের পাখির মধ্যে ধনেশ, পাহাড়ি ময়না, মদনা টিয়া, লালবুক টিয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷ বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যানগুলোতে এসব পাখির দেখা মেলে৷ 

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

উপকূলীয় পাখি

বাংলাদেশের উপকূল ও চরাঞ্চলে নানা রকম পাখি দেখা যায়৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গাঙচষা, বিভিন্ন প্রজাতির গাঙচিল, পানচিল, বাটান, গুলিন্দা উল্লেখযোগ্য৷ উপকূলীয় পাখি বিভিন্ন আবাসস্থলের মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় দমারচর, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ, পটুয়াখালীর সোনারচর ও ভোলার চরকুকরিমুকরি উল্লেখযোগ্য৷ 

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

জলাশয়ের পাখি

বাংলাদেশের সব এলাকার জলাশয়গুলোতে প্রায় সারা বছরই দেখা যায় কিছু পাখি৷ খাবারের খোঁজে এসব পাখি জলাশয়ে ঘুরে বেড়ায়৷ নানারকম বক, পানকৌড়ি এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য৷ 

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

পোষা পাখি

বাড়িতে অনেকেই পাখি পোষেন৷ পোষা পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিদেশি ঘুঘু, কবুতর, বাজরিগার, কাকাতুয়া, লাভ বার্ডসহ নানা রকমের পাখি৷ পোষা পাখির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাজরিগার, কাকাতুয়া আর লাভ বার্ডের৷ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেকে ময়না, টিয়া, দেশি ঘুঘু ইত্যাদিও খাঁচায় পুষে থাকেন৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

পোষা পাখির বাজার

বাংলাদেশে পোষা পাখির সবচেয়ে বড় বাজার ঢাকার কাঁটাবনে৷ এখানকার শতাধিক দোকানে বিক্রি হয় নানা রকম খাঁচার পোষা পাখি৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

বনের পাখি বিক্রি

বন্যপ্রাণি আইনে বনের পাখি বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ হলেও খোদ ঢাকাতেই বিক্রি হয় বনের পাখি৷ অনেকে খাঁচায় পোষার জন্য কেনেন এসব পাখি৷ 

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

পাখি শিকার

বন্যপ্রাণী আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না থাকার কারণে বাংলাদেশে পাখি শিকার হরহামেশাই হয়ে থাকে৷ গ্রামে গ্রামে পাখি শিকারের অন্যতম হাতিয়ার এয়ারগান৷ এছাড়া বিভিন্ন রকম ফাঁদ, বিষটোপ দিয়েও প্রচুর পাখি শিকার করা হয়৷

বাংলাদেশে কেমন আছে পাখিরা

পাখি যখন খাবার

খাবার জন্য বনের পাখি শিকার নিষিদ্ধ৷ তবে বাংলাদেশে অনেকেই ফাঁদ পেতে পাখি ধরেন মাংস খাওয়ার জন্য৷ আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এসব পাখি বিক্রিও হয় বিভিন্ন জায়গায়৷

বাংলাদেশে কি পাখির অভয়ারণ্য আছে?

সরাসরি অভয়ারণ্য নাম দিয়ে হয়ত নেই৷ তবে ৪০টি সংরক্ষিত বন আমাদের আছে৷ সেখানে কেউ চাইলেও বাড়ি করতে পারে না৷ কেউ পাখি, পশু পাখি মারতে পারে না৷ রক্ষিত এলাকা হলে সেখানে সব পশুই রক্ষিত৷ সেখানে সবাই নিরাপদ৷ যেমন, সুন্দরবন সংরক্ষিত৷ সেখানে বাঘ মারা যাবে না৷ তার মানে কি পাখি মারা যাবে? কেউ আপনাকে কিছু বলবে না? আসলে তা নয়, যেখানে সংরক্ষিত, সেটা সবার জন্য রক্ষিত৷ বাঘও যেমন রক্ষিত, সেখানে পাখিও রক্ষিত৷

এই রক্ষিত জায়গায়গুলোতে পাখির থাকা বা প্রজননের ভালো বন্দোবস্ত আছে?

দেখেন পাখি তো একটা বন্য প্রাণী৷ যদি ভালো পরিবেশ থাকে, তাহলে সবকিছুই সে নিজে করবে৷ তার খাবার আপনাকে দিতে হবে না, তার থাকার ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে না, সে নিজেই করে নেবে৷ কোনো বন্য প্রাণীর জন্যই তা করে দিতে হয় না৷

পাখির প্রতি সাধারণ মানুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

আগে আমাদের আচরণ খুবই খারাপ ছিল৷ এটা আমাদের ঐতিহাসিক কারণ৷ আমাদের থেকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী যাঁরা, তাঁরা কিন্তু পাখির প্রতি বা যে কোনো প্রাণীর প্রতি একটু সহানুভূতিশীল ছিল৷ কিন্তু আমরা মনে করতাম, এটা প্রকৃতি দিয়েছে আমাদের খাবারের জন্য৷ একশ' বছর আগেই এখানকার মানুষ ওভাবে চিন্তা করত না৷ গত ৫০ বছরে এই ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে৷ এখন অনেকেরই পাখির প্রতি মমতা বা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে৷ এখন কিন্তু বন্য পাখি ধরে আপনি কোথাও বিক্রি করতে পারবেন না৷ এটা কিন্তু প্রশাসন বন্ধ করেনি৷ সাধারণ মানুষই বন্ধ করে দিয়েছে৷ ঢাকায় আগে খাঁচার মধ্যে পাখি বিক্রি হতো৷ এখন কিন্তু সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে৷ শিক্ষিত মানুষ সচেতন হয়েছেন৷ আমাদের দু'টো জিনিস ভালো হয়েছে, একটা মানুষ সজাগ হয়েছে আর দ্বিতীয়টা হলো সরকারি পদক্ষেপগুলো ভালো হয়েছে৷

সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়