1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

টিকাদানে ইউরোপের দুর্বলতা

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ইইউ কমিশন প্রেসিডেন্ট ফন ডেয়ার লাইয়েন ইউরোপের মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেবার ক্ষেত্রে দুর্বলতা স্বীকার করেছেন৷ তার মতে, উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে জটিলতা সম্পর্কে ভাবা উচিত ছিল৷

https://p.dw.com/p/3ovP1
ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন
ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েনছবি: Francois Walschaerts/REUTERS

জনজীবন তথা অর্থনীতির উপর করোনা সংকটের কুপ্রভাব নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই৷ এমন প্রেক্ষাপটে সংকটের মোকাবিলায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়ছে৷ বিশেষ করে ইউরোপের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির আলোকে সমালোচকরা দাবি করছেন যে করোনা টিকার অভাব মেটাতে ঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি৷ জাতীয় স্তরে বিষয়টি আবদ্ধ না রেখে ইউরোপীয় কমিশনের হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা তুলে দেওয়া সত্ত্বেও সুবিধার বদলে অচলাবস্থা দেখা যাচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন৷

এমন সমালোচনার জবাবে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন টিকা সংক্রান্ত নীতির ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করছেন৷ এমনকি ভবিষ্যতেও টিকা সরবরাহে ঘাটতি সম্পর্কে পূর্বাভাষ দিয়েছেন তিনি৷ ইউরোপের একাধিক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, যে টিকা উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপ আরো আগে পদক্ষেপ নিতে পারতো৷ শুধু প্রতিযোগিতার বাজারে টিকার দাম নিয়ে দরকষাকষির সঙ্গে সঙ্গে বিশাল মাত্রায় টিকা উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করা উচিত ছিল বলে মনে করেন ফন ডেয়ার লাইয়েন৷ একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইসরায়েলের মতো দেশ এ ক্ষেত্রে আরো জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে আরও বেশি মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে৷ রাষ্ট্রজোট হিসেবে সব সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া সেই তুলনায় বেশি জটিল বলে তিনি মনে করিয়ে দেন৷ তবে এখনো তিনি মনে করেন, চলতি বছরের গ্রীষ্মকালের শেষে ইউরোপের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ করোনা টিকা পেয়ে যাবেন৷

ব্রিটেনের উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশে টিকা সরবরাহকে কেন্দ্র করে ইইউ-র হুমকি সম্পর্কেও আফসোস প্রকাশ করেন ইইউ কমিশন প্রেসিডেন্ট৷ ব্রেক্সিট চুক্তির একটি ধারা কাজে লাগিয়ে সেই সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে ভাবাও উচিত হয়নি বলে তিনি এখন মনে করেন৷ গত শুক্রবার এমন সম্ভাবনার বিষয়ে আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেন চরম বিরক্তি প্রকাশ করার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়৷

এক সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফলে চলমান সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির এক ভয়াবহ খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে৷ সেই রিপোর্ট অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি যথেষ্ট দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে চলতি বছরে ক্ষতির মাত্রা ৯,০০০ কোটি ইউরো পর্যন্ত ছুঁতে পারে৷ আলিয়ানৎস বিমা কোম্পানি ও অয়লার হ্যার্মেস ঋণ বিমা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে এমন পূর্বাভাষ দেওয়া হয়েছে৷ সেই গবেষণা অনুযায়ী টিকাদানে যত বিলম্ব হবে, অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা ততই বাড়বে৷ টিকাদানের বর্তমান হারে গতি আনতে না পারলে ২০২২ সাল পর্যন্ত জনজীবন স্বাভাবিক হবে না৷

এসবি/এসিবি (ডিপিএ, রয়টার্স)

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য