আফগান সহপাঠীকে রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে জার্মান শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

এক আফগান শরণার্থীকে ক্লাসরুম থেকে তুলে নিয়ে তার দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে জার্মানিতে৷ শরণার্থীর জার্মান সহপাঠীরা তাঁর বিতাড়ন ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে৷

জার্মানির ন্যুরেমবার্গ শহরে বুধবারের ঘটনা৷ এক আফগান শরণার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে পুলিশ৷ বিশ বছর বয়সি শরণার্থীকে তার ভোকেশনাল স্কুলের ক্লাসরুম থেকে তুলে বিতাড়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া ছিল তাদের উদ্দেশ্য৷ কিন্তু বাধ সাধে কয়েকশত শিক্ষার্থী৷ যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো রুখতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থীরা৷

সংঘর্ষে নয় পুলিশ সদস্য আহত হয়৷ এছাড়া পাঁচজনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়৷ প্রতিবাদকারীদের ঠেকাতে পুলিশ মরিচের গুঁড়া এবং কুকুর ব্যবহার করেছে৷ আর জনতাও পুলিশের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেছে বোতল ছুড়ে, কেউ কেউ আবার গাড়ির সামনে শুয়েও পড়েছে৷ পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ভিডিও ইতোমধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে৷

প্রসঙ্গত, ন্যুরেমবার্গের এই ঘটনা এমন একদিনে ঘটেছে, যেদিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ট্রাক বোমা বিস্ফোরণে প্রায় নব্বই ব্যক্তি নিহত এবং কয়েকশত আহত হয়৷ জার্মান দূতাবাসও বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ অথচ আফগানিস্তানকে কিছুদিন আগে ‘নিরাপদ রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের ফেরত পাঠাতে শুরু করে জার্মানি৷ ইতোমধ্যে পাঁচটি ফ্লাইটে শতাধিক আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ তবে বোমা হামলার পর বুধবারের ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে৷

এদিকে, ন্যুরেমবার্গের ঘটনার পর জার্মানির বিতাড়ন নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার বলে মতামত জানিয়েছেন রাজনীতিবিদরা৷ ন্যুরেমবার্গের মেয়র উলরিশ মাল্যে জানিয়েছেন যে, আফগানিস্তানে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র সরকারের নীতি পুনরায় বিবেচনা করা উচিত৷ ‘‘ক্লাসরুম থেকে একজন শিক্ষার্থীকে তুলে নেয়া গ্রহণযোগ্য নয়,’’ বলেন তিনি৷

তবে ম্যার্কেলের দল সিডিইউ'র সিসটার পার্টি সিএসইউ মনে করছে, কাবুলে হামলা হলেও সে কারণে বিতাড়ন নীতিতে পরিবর্তনের কোনো দরকার নেই৷ কার্যত, এই দলের চাপেই অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে জার্মানি৷

এআই/এসিবি (কেএনএ, ডিপিএ, এএফপি)

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

শরণার্থী এবং স্থানীয়দের সুবিধা

দক্ষিণ ইটালির এসপ্রোমন্টের ছোট্ট সেন্ট’আলেসিও গ্রামের বাসিন্দারা গত তিন বছর ধরে পরিবার এবং অভিবাসীদের স্বাগত জানাচ্ছেন৷ এক প্রকল্পের আওতায় এটা করা হচ্ছে, যা শুধু মানবিক সহায়তাও নয় অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুযোগ সুবিধাও দিচ্ছে৷

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

প্রায় মরুতে পরিনত হওয়া গ্রাম

শরণার্থীরা আসার আগের বছরগুলোতে সেন্ট’আলেসিও’র বাসিন্দার সংখ্যা ক্রমশ কমছিল৷ সেখানে ছিল মাত্র ৩৩০ জন বাসিন্দা, যাদের অধিকাংশই বৃদ্ধ৷ গ্রামের রাস্তাঘাটগুলো হয়ে যাচ্ছিল মরুভূমির মতো, ঘরবাড়ির জানালাও থাকতো অধিকাংশ সময় বন্ধ৷ আসলে ভালো কাজের আশায় গ্রামটির অধিকাংশ বাসিন্দা পাড়ি দেন টুরিন, মিলান এমনকি অস্ট্রেলিয়া অবধি৷ ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়৷

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

অভিবাসীদের জন্য ইটালীয় রান্নার প্রশিক্ষণ

গ্রামের পরিস্থিতি বদলের জন্য স্থানীয় কাউন্সিল অভিবাসীদের জায়গা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন৷ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থীদের নেটওয়ার্ক এসপিআরএআর’এর সহায়তায় ৩৫ অভিবাসীকে গ্রামের আটটি খালি ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া হয়৷ ছবিতে অভিবাসীরা রান্নার ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন৷

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

‘একটু নড়াচড়া ভালো’

গ্রামের একমাত্র বারে স্থানীয় এবং অভিবাসীরা একত্রে সময় কাটান৷ বারটির মালিক ক্যালেস্টিনা বোরেলো, যার ছেলে ভালো কাজের আশায় গ্রাম ছেড়ে বেলজিয়ামে চলে গেছেন কয়েকবছর আগে৷ ক্যালেস্টিনা জানান, গ্রামটি ক্রমশ জনশূণ্য হয়ে যাচ্ছিল, তবে এখন যে অল্পবিস্তর ‘নড়াচড়া’ সৃষ্টি হয়েছে তা অবশ্যই ভালো৷

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

অভিবাসীদের দেয়া হচ্ছে সব সুযোগ

গ্রামটিতে বর্তমানে ইরাকি কুর্দিদের এক পরিবার, ঘানা, নাইজেরিয়া, মালি, সেনেগাল এবং গাম্বিয়ার কয়েকজন অল্পবয়সি অভিবাসী বসবাস করছেন৷ তাদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে৷ বিশেষ করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে কাজের সুযোগ, ভাষা শেখার ব্যবস্থা, আইনি সহায়তা, এমনকি প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে৷ সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও স্থানীয়দের সঙ্গে অভিবাসীদের যুক্ত করা হচ্ছে৷

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

আশাবাদী মেয়র

গ্রামের মেয়র স্টেফেনো কালাবোরো মনে করেন, অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধাও নিশ্চিত হচ্ছে৷ এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে, যারা পার্টটাইম বা ফুলটাইম কাজ করছেন৷ ষোল জনের মধ্যে সাতজন স্থানীয় বাসিন্দা৷

ইটালির যে গ্রামের প্রাণ ফিরিয়েছেন শরণার্থীরা

খেলার মাঠে সখ্যতা বাড়ানো

স্থানীয় এবং অভিবাসীদের মধ্যে সখ্য বাড়ানোর এক উপায় এই ফুটবল খেলার মাঠ৷ পাশাপাশি গ্রামের অধিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার বার, সুপারমার্কেট, চিকিৎসকের চেম্বার, যেগুলো কিনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সবই এখন চালু রাখা যাবে৷

আমাদের অনুসরণ করুন