মন্দির ভক্তদের ন্যাড়া হওয়া নিয়ে পাঠকরা যা বললেন

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার আগে অনেক ভক্ত মাথার সব চুল কেটে ফেলেন৷ সেই চুল দিয়ে ব্যবসা করে মন্দির৷ এই রীতি সম্পর্কে ডয়চে ভেলের পাঠকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় নুরুল ইসলাম পান্না লিখেছেন, ‘‘তারা তাদের ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মাথা ন্যাড়া করছে৷ কারো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না! তাতে আমাদের সমস্যা কি?''

বিমল কর্মকার লিখেছেন, ‘‘এই চুল বিক্রি করা অর্থ যেহেতু মন্দিরের সম্পত্তি হয়ে জমা হয়েছে, তাই একে ‘ব্যবসা' বলা মূর্খতা৷ কারণ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপতি শহরের ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরটি কারো ভিক্ষায় চলেনা৷''

মহিউদ্দিন বিশ্বাস মনে করেন, ‘‘ভারতে এখন লাভজনক ব্যবসা ধর্ম ব্যবসা৷ যাতে কোনো পুঁজি লাগে না৷ লাগে শুধু মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও একটু ধর্মের সুড়সুড়ি৷ ব্যস তারপর গোটা দেশ থেকেই খুব সহজেই লভ্যাংশ আসতে শুরু করে৷''

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

শতাব্দী পুরনো প্রথা

ভক্তদের বিশ্বাস, মাথার সব চুল কেটে ফেললে হয়ত দেবতা খুশি হবেন৷ ফলে তাঁরা যা চান, দেবতা তা করে দিতে পারেন৷ সেই আশায় ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপতি শহরের ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির পরিদর্শনে যাওয়া ভক্তদের অনেকে ন্যাড়া হন৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

দিনে ৩৫ হাজার!

হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন৷ সংখ্যাটি ৩৫ হাজারই৷ সৌভাগ্যের আশায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ঐ সংখ্যক ভক্ত চুল কেটে ন্যাড়া হচ্ছেন৷ সব বয়সি মানুষই যোগ দেন এতে৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

উৎসবের সময়

অক্টোবর মাসে নয় দিনব্যাপী ব্রাহ্মোৎসবের সময় চুল কাটা ভক্তের সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ হাজারে গিয়ে ঠেকে৷ ২০১৬ সালে ন্যাড়া হয়েছেন প্রায় ৩৪ লক্ষ ভক্ত৷ এর মধ্যে নারী ছিলেন ১৭ লাখ৷ নাপিত ছিলেন প্রায় দেড় হাজার৷ এর মধ্য নারী নাপিতের সংখ্যা ছিল ২৭৭ জন৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

সংখ্যা বাড়ছে

দেবতাকে খুশি করতে চুলত্যাগী ভক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে৷ মন্দির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘২০১৬ মরসুমে এমন ভক্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ৷’’

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

কর্পোরেট রূপ দান

বিশ্বব্যাপী মানুষের চুলের ব্যাপক চাহিদার কথা ভেবে বছর দুয়েক আগে পুরো বিষয়টিকে ব্যবসায়িক রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

বছরে আয়

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চুল বিক্রি থেকে ২০০ কোটি রূপি আয় করে মন্দির কর্তৃপক্ষ, যা মোট আয়ের ১৫-১৮ শতাংশ৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

ভক্তদের জন্য আরামের ব্যবস্থা

চুল কাটার স্থান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে৷ এছাড়া ভক্তিমূলক সংগীত শোনা ও টিভিতে এ ধরণের মুভি দেখানো হয়৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

চুল রপ্তানি

এই খাতে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক৷ বছরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে দেশটি৷ মানুষের চুলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক চীন৷ তারপর আছে ব্রাজিল, হংকং, ইটালি আর যুক্তরাষ্ট্র৷

ন্যাড়া হচ্ছেন ভক্তরা, ব্যবসা করছে মন্দির

তিরুপতির চুলের চাহিদা

ভারতের ইকোনমিকস টাইমস বলছে, তিরুপতির মন্দিরে পাওয়া চুলের মান ভালো হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে৷ পরচুলাসহ অন্যান্য জিনিস তৈরিতে এই চুল ব্যবহার করা হয়৷

তবে নাহিদ পারভিনের মতে,  ধর্ম নিয়ে ব্যবসা সবখানেই দেখা যায়,কোথাও কম আর কোথাও বেশি৷

অন্যদিকে পাঠক সম্রাট খুব খুশি হয়েছেন ডয়চে ভেলে এ বিষয়ে তাঁদের মতামত জানতে চাওয়ার জন্য৷

জান মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘‘ভারতীয়রা আসলে ধর্মান্ধের অন্ধকার থেকে আজও বেরুতে পারেনি৷ অথচ এই তারাই বড় বড় কথা বলে৷''

তবে আতিকুর রহমান মনে করেন, যাঁদের চিন্তাশক্তি নেই তাঁরাই এসব বিষয় নিয়ে মাতামাতি করেন৷ আর বিশ্বাস কামরুল হাসানের বিশ্বাস, মানুষের বিবেক অন্ধ হলে মানুষ মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার আগে মাথা ন্যাড়া করতে পারেন বা সেই চুল দিয়ে ব্যবসাও করতে পারেন৷

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

ঢাকেশ্বরী মন্দির

ঢাকার সবচেয়ে পুরনো মন্দির৷ কিংবদন্তি আছে রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের জঙ্গলে দেবী দুর্গার একটি মূর্তি পান৷ মূর্তিটি স্থাপন করে তিনি সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করেন৷ মূর্তিটি জঙ্গলে ঢাকা অবস্থায় ছিল বলে দেবীর নাম হয় ‘ঢাকেশ্বরী’ (‘ঢাকা+ঈশ্বরী’)৷ আর মন্দিরটিও পরিচিতি পায় ঢাকেশ্বরী নামে৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

ঢাকেশ্বরী থেকে ঢাকা

অনেক ঐতিহাসিকের মতে, ঢাকেশ্বরী থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি৷ বর্তমানে এখানে চারটি শিবমন্দির আছে৷ এর নির্মাণশৈলী অনেকটা বৌদ্ধ মন্দিরের মতো৷ এগুলো তৈরি করেছিলেন সেনাপতি মান সিংহ৷ কিংবদন্তি আছে, ষোড়শ শতকে তিনি এখানে চারটি শিবলিঙ্গ স্থাপন করে মন্দির চারটি নির্মাণ করেন৷ রাজধানীর সবচেয়ে বড় দুর্গোৎসব বসে ঢাকার প্রাচীনতম এ মন্দিরে৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

রমনা কালী মন্দির

রমনা রেসকোর্স বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ প্রান্তে রমনা কালী মন্দির৷ বেশ পুরনো এ মন্দিরটি ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী ধ্বংস করে ফেলে৷ এর পরে এখানে আর বড় কোনো স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা না হলেও দুর্গা পূজার সময় নির্মাণ করা হয় বড় আকারের অস্থায়ী মন্দির৷ বাঁশের তৈরি এ মন্দিরকে ঢেকে দেয়া হয় রঙিন কাপড়ে৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

শ্রী শ্রী বুড়া শিবধাম

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উত্তর দিকে প্রাচীন, সুন্দর এ মন্দিরটির অবস্থান৷ জনশ্রুতি আছে, সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে তৈরি হয় মন্দিরটি৷ তবে বর্তমান কাঠামোটি নির্মাণ করেন বর্ধমানের রাজা স্যার বিজয় চাঁদ৷ ১৯৭১ সালে এ মন্দিরের সেবায়েতসহ বেশ কয়েকজন সাধুকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

রামকৃষ্ণ মিশন মঠ ও মন্দির

এটি রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন সড়কে অবস্থিত৷ ১৯১৬ সালে জমিদার জোগেশ চন্দ্র দাসের দান করা সাত বিঘা জমির উপর রাম কৃষ্ণ মঠ ও রামকষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়৷ এখানে মিশনের ভেতরে আছে সুরম্য একটি মন্দির৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে বিক্রমপুরের অধিপতি চাঁদ রায় আনুমানিক ১৫৮০ সালে নির্মাণ করেন এ মন্দির৷ এক সময় বিশাল পুকুর আর অরণ্যঘেরা এ মন্দিরটি এখন খুঁজে পেতেই কষ্ট হয়৷ কথিত আছে মা আনন্দময়ী, সেবাইত সৌম্যবরণ গোস্বামী প্রমুখ এ মন্দিরে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন৷ ধারণা করা হয় এ মন্দির থেকেই এলাকাটির নামকরণ৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির

স্থানীয়ভাবে এটি ‘রাজারবাগ কালী মন্দির’ নামে পরিচিত৷ জনশ্রুতি আছে ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে সম্রাট আকবরের সেনাপতি বাংলা বিজয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকার পূর্ব প্রান্তে এসে তাঁবু ফেলেন৷ তিনি সেখানে গঙ্গাসাগর নামে একটি দিঘি খনন করেন৷ ঈশা খাঁ-কে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে বর চেয়ে দীঘির পূর্ব পাশে একটি কালী মন্দির নির্মাণ করেন৷ এরপর থেকে এর নাম হয় বরদেশ্বরী কালী মন্দির৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

স্বামীবাগ লোকনাথ আশ্রম

ঢাকার স্বামীবাগে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির৷ শক্তি ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মথুরামোহন মুখোপাধ্যায় ১৯০৫ সালে এটি নির্মাণ করেন৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

স্বামীবাগ ইসকন মন্দির

ঢাকার স্বামীবাগে ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসকন মন্দির৷ এটি হিন্দু বৈষ্ণব সাধক সম্প্রদায়ের প্রার্থনালয় এটি৷ এখানে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ (১৮৯৬-১৯৭৭) সংক্ষেপে শ্রীল প্রভুপাদ’র মূর্তি আছে৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

জয়কালী মন্দির

প্রায় তিনশত বছরের পুরনো ঢাকার বহুল পরিচিত মন্দির৷ প্রাচীন এ মন্দিরটিতে শুরুতে দুটি চূড়া ছিল৷ এখন শুধু শিব মন্দিরের উপর নির্মিত চূড়াটি আছে৷ মন্দিরের চূড়ার আকর্ষণীয় অলঙ্করণও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের কারণে নষ্ট হয়েছে৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

গৌড়ীয় মাধব মঠ

পুরনো ঢাকার নারিন্দায় অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌড়ীয় মাধব মঠ৷ শ্রী সিদ্ধান্ত স্বরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ ১৯২১ সালে এ মঠের প্রতিষ্ঠা করেন৷ এখানে আছে একটি কৃষ্ণ মন্দির, নাটমণ্ডপ ও যাত্রীনিবাস৷

ঢাকার দশটি প্রাচীন মন্দির

শ্যামবাজার শিব মন্দির

বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে প্রাচীন এ মন্দিরটি অবস্থিত৷ অতীতে এ মন্দিরে একটি উঁচু চূড়া ছিল৷ চার্লস ডয়েলির আঁকা ছবিতে ঢাকার নর্থব্রুক হলের সঙ্গে এ মন্দিরটিও দেখা যায়৷ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা এ চূড়াটি গুড়িয়ে দেয়৷

আমাদের অনুসরণ করুন