চতুর্থবারের জন্য সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি পেশ করবেন মে

৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে জুন মাসেই ইইউ থেকে বিচ্ছেদ চুক্তি অনুমোদন করাতে চান৷ তবে বিরোধী লেবার পার্টির সঙ্গে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি৷

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আগামী মাসে আরো একবার সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের চেষ্টা চালাতে চান৷ সম্ভবত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এই প্রস্তাব পেশ করা হবে৷ সংসদের গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে আগামী ৩১শে অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছেন৷ মন্ত্রিসভা ও সংসদের পর রানি এলিজাবেথের আনুষ্ঠানিক সম্মতিও আদায় করতে হবে৷ উল্লেখ্য, সাধারণত জুলাই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে সংসদে গ্রীষ্মকালীন বিরতি শুরু হয়৷ সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদায় নেবারও তোড়জোর করছেন তিনি৷

এর আগে তিন-তিনবার চেষ্টা করেও সংসদে বিচ্ছেদ চুক্তির পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী৷ বিরোধী লেবার দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য অর্জনের চেষ্টা শুরু করেন মে৷ তারপর পৌর নির্বাচনে তাঁর টোরি দল ও বিরোধী লেবার দল অত্যন্ত খারাপ ফল করেছে৷ আসন্ন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনেও এই দুই দলের শোচনীয় পরাজয়ের আভাস দিচ্ছে নানা জনমত সমীক্ষা৷ ব্রিটেনের দুই প্রধান দলকে পেছনে ফেলে নাইজেল ফারাজের সদ্য গঠিত ব্রেক্সিট পার্টি আপাতত তালিকার শীর্ষে রয়েছে৷ এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেরেসা মে ও জেরেমি কর্বিন আবার আলোচনায় বসেন৷ বুধবারও দুই দলের মধ্যে আলোচনা চলবে৷

এই অবস্থায় টোরি ও লেবার দল প্রবল চাপের মুখে পড়েছে৷ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের তাগিদ আরও জোরালো হয়েছে৷ তবে প্রায় ৪ সপ্তাহ ধরে আলোচনার পরেও দুই পক্ষ কোনো সমাধানসূত্র স্থির করতে পারেনি৷ তার উপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টেরেসা মে বিদায় নিলে তাঁর উত্তরসূরি এমন কোনো বোঝাপড়া মেনে চলবেন কিনা, তা-ও স্পষ্ট নয়৷ ফলে লেবার দলের মধ্যে সংশয় বাড়ছে৷ দলের নেতা জেরেমি কর্বিন নিজেও প্রবল চাপের মুখে রয়েছেন৷ লেবার দলের একাংশ নতুন গণভোটের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে৷ এমনকি ব্রেক্সিট আদৌ কার্যকর করার বিষয়েও দলের মধ্যে ঐকমত্য নেই৷

নতুন এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের টোরি দলের মধ্যে বিভাজন আপাতত কিছুটা দূর হয়েছে৷ মতবিরোধ সত্ত্বেও মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সব সদস্য বিরোধী লেবার দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবার প্রয়োজনীয়তা ও সংসদে ইইউ থেকে বিচ্ছেদ চুক্তি পেশ করার প্রশ্নে একমত হয়েছেন৷ তবে লেবার দলের নেতা কর্বিনের দাবি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে স্থায়ী শুল্ক ইউনিয়নের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি নেতারা৷ ১৪ জন প্রভাবশালী নেতা এক যৌথ চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে এর পরিণাম সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছেন৷ এমনকি টোরি দলে ভাঙনেরও আশঙ্কা করছেন তাঁরা৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, ডিপিএ)


আমাদের অনুসরণ করুন